হজ্জের সফর ছোট হলে ভালো, না বড় হলে ভালো
হজ্জের সফর ছোট হলে ভালো, না বড় হলে ভালো? আমি মে মাসের ৩ তারিখে মদিনায় আসার মাধ্যমে হজ্জের সফর শুরু করি। এখনো মক্কাতেই আছি ।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যা বুঝলাম তা বলবো, হয়তো আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।
আমার কথাগুলো একটু স্ট্রেট ফরওয়ার্ড, বেশিরভাগ লোকের মনে ধরবে না। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আমার মতে, হজ্জ হলো টাকা দিয়ে জান্নাত কেনার ব্যবসা।
তবে এই ব্যবসায় আখেরাতের যেমন লাভ, তেমন দুনিয়াতেও প্রচুর লাভ।
এই লাভ-লস তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সাথে ব্যবসা কিভাবে করতে হয় তা শিখে আসে।
এখন হজ্জের সফরে আপনি আসলেন ঠিক, ৩০-৪০ দিন থাকলেন ঠিক,
কিন্তু আল্লাহর সাথে ব্যবসা না করে যদি মক্কা-মদিনার শপিং মলে কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে এক মাস না এক বছর হজ্জের সফর হলেও কোনো লাভ হবে না।
মদিনায় অফার ১ = ১০০০
মক্কার অফার ১ = ১০০০০০
এখন আপনি বলেন, সময় কোথায় দিবেন?
আর হজ্জের সফরে আর্থিক বিষয় দুইভাবে জড়িত। আপনি কোরআনের আয়াত পড়েন বা হাদিস পড়েন, দুই জায়গাতেই পাবেন।
এটা গ্যারান্টিড খরচ বেশি, লাভও বেশি। আল্লাহ বলেছেন খরচপাতি জোগাড় করে হজ্জে যেতে,
আর আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেছেন, হজ্জে আসলে আয় বৃদ্ধি পাবে। এখন কথা হচ্ছে, মসজিদে বসে থাকতে কতক্ষণ ভালো লাগে? সেজন্য এক্সট্রা কিছু অ্যাক্টিভিটি লিস্ট করে নিতে হবে। নিজের জ্ঞানে যত সহজ সহজ ইবাদত আছে, তা সব লিস্ট করে করা শুরু করে দিবেন।
একটা উদাহরণ দিচ্ছি।
মদিনায় নামাজ পড়ার পর অনেক সময় ফাঁকা লাগবে। দেখবেন মানুষ মসজিদের ভেতরে বসে বসে ভিডিও কলে কথা বলছে। আপনি কিন্তু সূরা ইখলাস পারেন, যা তিনবার পড়লে একবার কোরআন খতমের সওয়াব।
আপনি সুযোগ পেলে এই সূরা বেশি করে পড়েন। বাকি সহজ সহজ যত তাসবিহ আছে, তা তো থাকবেই।
প্রেশার নেওয়ার দরকার নেই। আর মসজিদুল হারামে দেখবেন সময় দৌড়াচ্ছে। আপনিও দৌড়াবেন, তবে তাওয়াফে। টায়ার্ড হলে একটু জমজম খাবেন, তারপর আবার দৌড় শুরু করবেন। এখন সিদ্ধান্ত আপনার
হজ্জের সফর ছোট করবেন, না বড় করবেন?
Comments
Post a Comment