Posts

জীবনের শেষ পোশাক যদি হয় ইহরাম

Image
জীবনের শেষ পোশাক যদি হয় ইহরাম, তবে কিয়ামতের দিনও সে উঠবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলতে বলতে।" ইহরামের কাপড়েই কাফন কত সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যার জীবনের শেষ পোশাক হয় আল্লাহর ঘরের মেহমান হওয়ার পোশাক! হজ বা উমরাহ অবস্থায় কোনো মুসলমান ইন্তেকাল করলে তাকে তার ইহরামের কাপড়েই কাফন দেওয়া হয়। কারণ সে কিয়ামতের দিনও সেই ইহরামের অবস্থায় উঠবে—তালবিয়া পাঠ করতে করতে। Sahih al-Bukhari-তে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তখন Muhammad ﷺ বলেন— > "তাকে তার দুই কাপড়ে (ইহরামের কাপড়ে) কাফন দাও, সুগন্ধি ব্যবহার করো না এবং তার মাথা ঢেকো না। কারণ আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৬৫) এ হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মৃত্যু যদি আল্লাহর আনুগত্যের পথে আসে, তবে সেটি কত বড় সৌভাগ্যের বিষয়! তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এমন আমলে কাটানোর চেষ্টা করা উচিত, যেন মৃত্যুর পরও আমাদের অবস্থা আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়। কেন অনেকেই নিজের ইহরামের কাপড় কাফনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখেন? হজ বা উমরাহ থেকে ফিরে অনেক মুসলমান তা...

জায়নামাজে দাঁড়িয়ে বলেন "আল্লাহু আকবার"...তখন আল্লাহ ঠিক কোথায় থাকেন?

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, যখন আপনি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে বলেন "আল্লাহু আকবার"...তখন আল্লাহ ঠিক কোথায় থাকেন? এই প্রশ্নটা হয়তো কখনো মাথায় আসেনি। অথবা এসেছে; কিন্তু উত্তর খোঁজার সাহস হয়নি। কিন্তু চৌদ্দশত বছর আগে, এক সাহাবী এই প্রশ্নের উত্তর জেনেছিলেন। এবং সেই উত্তর শুনে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। আজ সেই ঘটনাটি শেয়ার করবো। একটি রাতের ঘটনা, মদিনার অলিতে গলিতে মদিনার রাত। চাঁদের আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে পথঘাট। মসজিদে নববীতে তখনো প্রদীপ জ্বলছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বসে আছেন। সেদিন হযরত আবু যর গিফারী (রা.) রাসূলের ﷺ কাছে এসে বসলেন। মনের ভেতর একটা প্রশ্ন অনেকদিন ধরে ঘুরছে। লজ্জায় জিজ্ঞেস করতে পারছেন না। কিন্তু আজ আর থাকা গেল না। আস্তে আস্তে বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ... নামাজে যখন আমি দাঁড়াই... আল্লাহ তখন কোথায় থাকেন?" মসজিদে একটু নীরবতা নামল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর দিকে তাকালেন। সেই চোখে ছিল অসীম মায়া। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, "আল্লাহ তা'আলা বান্দার দিকে মুখ করে থাকেন যতক্ষণ সে নামাজে থাকে এবং অন্যদিকে মনোযোগ না দেয়।" (সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ১১৯৫) আবু যর...

হজ্জের সফর ছোট হলে ভালো, না বড় হলে ভালো

হজ্জের সফর ছোট হলে ভালো, না বড় হলে ভালো? আমি মে মাসের ৩ তারিখে মদিনায় আসার মাধ্যমে হজ্জের সফর শুরু করি। এখনো মক্কাতেই আছি । ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যা বুঝলাম তা বলবো, হয়তো আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। আমার কথাগুলো একটু স্ট্রেট ফরওয়ার্ড, বেশিরভাগ লোকের মনে ধরবে না। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমার মতে, হজ্জ হলো টাকা দিয়ে জান্নাত কেনার ব্যবসা। তবে এই ব্যবসায় আখেরাতের যেমন লাভ, তেমন দুনিয়াতেও প্রচুর লাভ। এই লাভ-লস তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সাথে ব্যবসা কিভাবে করতে হয় তা শিখে আসে। এখন হজ্জের সফরে আপনি আসলেন ঠিক, ৩০-৪০ দিন থাকলেন ঠিক, কিন্তু আল্লাহর সাথে ব্যবসা না করে যদি মক্কা-মদিনার শপিং মলে কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে এক মাস না এক বছর হজ্জের সফর হলেও কোনো লাভ হবে না। মদিনায় অফার ১ = ১০০০ মক্কার অফার ১ = ১০০০০০ এখন আপনি বলেন, সময় কোথায় দিবেন? আর হজ্জের সফরে আর্থিক বিষয় দুইভাবে জড়িত। আপনি কোরআনের আয়াত পড়েন বা হাদিস পড়েন, দুই জায়গাতেই পাবেন। এটা গ্যারান্টিড খরচ বেশি, লাভও বেশি। আল্লাহ বলেছেন খরচপাতি জোগাড় করে হজ্জে যেতে, আর আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেছেন, হজ্জে আসলে আয় বৃদ্ধি পাবে। এখন কথা হচ্ছে, মসজ...

অসুবিধায় পড়লে আল্লাহর কাছে ছুটে যাও

  ইসহাক ইবনু আব্বাদ আল-বাসরী বলেন, ‘এক রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখি কেউ একজন এসে আমাকে বলছে, ‘অভাবিকে সাহায্য করো।’ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি ঘরের লোকদের জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের কেউ কী অভাবে আছে?’ তারা বলল, ‘না এমন কারো কথা তো জানি না।’ আমি তখন ঘুমিয়ে পড়লাম। আবার স্বপ্নে দেখলাম আমাকে একজন এসে বলছে, ‘তুমি অভাবীকে সাহায্য না করে এখনো ঘুমাচ্ছ?’ এটা শুনে আবার আমার ঘুম ভেঙে গেল। স্বপ্নটাকে অহেতুক মনে করে ফের ঘুমিয়ে পড়লাম। তৃতীয়বারও একই স্বপ্ন দেখলাম। এবার আমি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লাম এবং আমার ভৃত্যকে বললাম, ‘গাধার পিঠে গদি চড়াও।’ এরপর আমি নিজের সাথে তিনশ রৌপ্যমুদ্রা নিয়ে গাধার উপর চড়ে বসলাম এবং লাগাম ছেড়ে দিলাম। গাধাটি নিজের মত চলতে লাগল। সে জামে মসজিদ পার হয়ে সামনের একটি খোলা ময়দানে গিয়ে পৌঁছল। তারপর কবরস্থানের পথ ধরে ডান দিকের একটা খালি জায়গায় গিয়ে পৌঁছল। সেখানে সাধারণত জানাজার নামাজ পড়া হয়ে থাকে। গাধাটা সেখানে পৌঁছে থেমে গেল। তাকিয়ে দেখি ওখানে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছে। আমার আগমন টের পেয়ে সে পিছনে ফিরলো। আমি তার কাছাকাছি হয়ে জিজ্ঞেস করলা...

মিনার তাবু থেকে একটি জীবন্ত উপলব্ধি

  মিনার তাবু থেকে একটি জীবন্ত উপলব্ধি নিজেকে অনেক ধিক্কার দিচ্ছিলেন বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য ডাক্তার (সরাকারি মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। পবিত্র মিনার তাবু। চারদিকে লাখো লাখো আল্লাহর মেহমানের লাব্বাইক ধ্বনি। হজের এই ক্লান্তিকর কিন্তু আত্মিক প্রশান্তির সফরে আমার ডান পাশে বসে আছেন বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত স্বনামধন্য ও সদ্য রিটায়ার্ড সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল। পেশাগত জীবনে যিনি হাজারো মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, ব্যস্ততম সময় পার করেছেন মানবসেবায়। আরা বাম পাশের বিছানায় ৭২ বছর বয়সী এক আংকেল। হঠাৎ করেই দেখি ডাক্তার সাহেবের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। নিজেকে নিজে ধিক্কার দিয়ে, ভীষণ অনুতপ্ত হয়ে তিনি বলছিলেন— "আমার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আরও আগে কেন হজে আসলাম না!" গতকাল আমাদের হজের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল মুজদালিফা থেকে হেঁটে জামারাতে এসে বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর মারা। আমার ঘড়ির হিসেবে প্রায় ১৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ। ৪৪ বছর বয়সী একজন সুস্থ, সুঠাম দেহের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আমার আর আমার স্ত্রীর (লুবনা) পা দুটো যখন আর চলছিল না, যখন মনে হচ্ছিল একটু বসতে পারলে পরম শান্তি পেতাম— তখন...

নবিজির প্রতি ভালোবাসার তীব্রতা

Image
নবিজির প্রতি ভালোবাসার তীব্রতা এবং সেই ভালোবাসার প্রতি উম্মাহর শ্রদ্ধা ও প্রতিশ্রুতি! এই তিনের সমন্বয়ে গত চৌদ্দশত বছরে একদিনও বন্ধ হয়নি এ দরজা! আপনি যখন প্রাণপ্রিয় নবিজিকে দুরুদুরু বুকে বাবুস সালাম দিয়ে সালাম দিতে ঢুকবেন এবং ধীরস্থির পায়ে এগুতে এগুতে ঠিক রওযার সামনে দাঁড়াবেন, অনুভব করুন আপনি আম্মাজান হাফসা রা. এর ঘরের ওপর দাঁড়িয়ে। যে জায়গাটিতে নবিজি শুয়ে আছেন, সেটি আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার ঘর আর যে জায়গায় আপনি দাঁড়িয়ে, তা আম্মাজান হাফসা রা. এর ঘর ছিল৷ দুই ঘর এত কাছাকাক্সহি ছিল যে, দুই আম্মাজান নিজ নিজ ঘরে থেকে পরষ্পর গল্প করতেন। দুই ঘরের মাঝে ব্যবধান ছিল একটি সংকীর্ণ গলিপথ। একটা বার ভাবুন তো! আপনি নবিজির ঘরে এসে নবিজিকে সালাম দিচ্ছেন! এবার এই দরজার গল্পে ফিরে আসি। খলিফা উমার রা.এর সময় মসজিদ সম্প্রসারিত করার প্রয়োজন হল। তিনি তার মেয়ে হাফসাকে বললেন, 'মা! তোমার ঘরটা ছেড়ে দাও। এটা মসজিদের অন্তর্ভূক্ত করব।' প্রাণপ্রিয় স্বামী ও নবিজির ঘর থেকে এবং তাঁর মসজিদ থেকে দূরে সরে যেতে আম্মাজানের মন সাড়া দিল না। তিনি তাই আমীরুল মুমিনীনকে বিনয়ের সাথে বললেন, আমার মসজিদের আসার পথ কী হবে? খলীফা...

উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার পরিক্ষিত আমল

Image
উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার পরিক্ষিত আমল কল্যাণকর বিয়ের জন্য যেসব আমল করবেন— ১। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করুন। কুরআন খতম দিন। এই উসিলায় বিয়ের জন্য দু'আ তো করবেনই, সাথে একটা বোতলে পানি রেখে কুরআন তিলাওয়াতের মাঝে মাঝে ফুঁ দিয়ে রাখতে পারেন। যেকোনো সময় ঐ পানিটা খেয়ে নিতে পারেন ইংশাআল্লহ। আর সেই পানিটা একটু বালতির পানির সাথে মিক্স করে গোসল করতে পারেন, চেহারাও ধুয়ে নিতে পারেন ইংশাআল্লহ। বিয়ে না হওয়া বা ভাঙ্গার কারণের মাঝে যদি জ্বীন, যাদু, বদনজর–এই সম্পর্কিত কিছু থেকে থাকে, তাহলে অনেক কাজে দিবে এটা। আপনার জন্য এটা রুকইয়াহ হিসেবে কাজ করবে।কারণ, আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সমস্ত কুরআন জুড়েই আমাদের জন্য শেফা রেখেছেন। আল্লহ (ﷻ) বলেন– “আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।”(সূরা ইসরা; আয়াত : ৮২) সব বিয়ে ভাঙা বা বিলম্ব জ্বীন–যাদুর কারণে নয়। অনেক সময় কদর, সামঞ্জস্য না হওয়া, অথবা আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম কিছু সংরক্ষিত থাকার কারণেও বিলম্ব হয়। তাই আমলের সাথে সাথে সঠিক অনুসন্ধান ও ইস্তিখারাও জরুরি। ২। জমজমের পানি খেয়ে দু'আ করবেন। দু'আ কবুলের সময় গুলোতে জমজমের...