নবিজির প্রতি ভালোবাসার তীব্রতা
নবিজির প্রতি ভালোবাসার তীব্রতা এবং সেই ভালোবাসার প্রতি উম্মাহর শ্রদ্ধা ও প্রতিশ্রুতি!
এই তিনের সমন্বয়ে গত চৌদ্দশত বছরে একদিনও বন্ধ হয়নি এ দরজা!
আপনি যখন প্রাণপ্রিয় নবিজিকে দুরুদুরু বুকে বাবুস সালাম দিয়ে সালাম দিতে ঢুকবেন এবং ধীরস্থির পায়ে এগুতে এগুতে ঠিক রওযার সামনে দাঁড়াবেন, অনুভব করুন আপনি আম্মাজান হাফসা রা. এর ঘরের ওপর দাঁড়িয়ে। যে জায়গাটিতে নবিজি শুয়ে আছেন, সেটি আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার ঘর আর যে জায়গায় আপনি দাঁড়িয়ে, তা আম্মাজান হাফসা রা. এর ঘর ছিল৷
দুই ঘর এত কাছাকাক্সহি ছিল যে, দুই আম্মাজান নিজ নিজ ঘরে থেকে পরষ্পর গল্প করতেন। দুই ঘরের মাঝে ব্যবধান ছিল একটি সংকীর্ণ গলিপথ। একটা বার ভাবুন তো! আপনি নবিজির ঘরে এসে নবিজিকে সালাম দিচ্ছেন!
এবার এই দরজার গল্পে ফিরে আসি। খলিফা উমার রা.এর সময় মসজিদ সম্প্রসারিত করার প্রয়োজন হল। তিনি তার মেয়ে হাফসাকে বললেন, 'মা! তোমার ঘরটা ছেড়ে দাও। এটা মসজিদের অন্তর্ভূক্ত করব।' প্রাণপ্রিয় স্বামী ও নবিজির ঘর থেকে এবং তাঁর মসজিদ থেকে দূরে সরে যেতে আম্মাজানের মন সাড়া দিল না। তিনি তাই আমীরুল মুমিনীনকে বিনয়ের সাথে বললেন, আমার মসজিদের আসার পথ কী হবে?
খলীফা তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তোমাকে পথ দেওয়া হবে এবং তোমার বর্তমান ঘরের চেয়ে বড় ঘর দেওয়া হবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আরেকটু দক্ষিণে ইবনু উমার রা. এর যে ঘর ছিল, সেটাই তাকে দেওয়া হয়৷ আর যে দরজাটি দেখতে পাচ্ছেন, এই দরজাটি হচ্ছে সে নতুন ঘরের দরজা। মানে এখান থেকেই আম্মাজানের ঘরের এরিয়া শুরু।
আম্মাজান খলীফার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, এখন দরজা দিলেন, আর ক দিন পর তা বন্ধ করে দিবেন, তা যেন না হয়। তিনি স্থায়ীভাবে এই দরজা খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন। আম্মাজান হাফসা চিরদিন এই ঘরে থাকেননি। তিনি জান্নাতুল বাকীতে শুয়ে আছেন। উমার রা.ও চলে গেছেন। কিন্তু উম্মুল মুমিনীন ও আমীরুল মুমিনীনের যে পরষ্পর প্রতিশ্রুতি, উম্মাহ আজও তা রক্ষা করে চলেছে।
এটি উম্মুল মুমিনীনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা। এটি আমীরুল মুমিনীনের প্রতি আমাদের আনুগত্য। এটি নবিজি ও তাঁর স্ত্রী হাফসা রা. এর পবিত্র ভালোবাসার এক অনুপম দৃষ্টান্ত।
মুহতারাম, আপনি যখন রওযা শরীফে সালাম দিতে দাঁড়াবেন, তখন ডানে তাকাবেন, তাহলেই জানালা সদৃশ এই দরজাটি দেখতে পাবেন। এটিকে আরবীতে খাওখাতু হাফসা বলে।—
Comments
Post a Comment