উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার পরিক্ষিত আমল
উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার পরিক্ষিত আমল
কল্যাণকর বিয়ের জন্য যেসব আমল করবেন—
১। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করুন। কুরআন খতম দিন। এই উসিলায় বিয়ের জন্য দু'আ তো করবেনই, সাথে একটা বোতলে পানি রেখে কুরআন তিলাওয়াতের মাঝে মাঝে ফুঁ দিয়ে রাখতে পারেন। যেকোনো সময় ঐ পানিটা খেয়ে নিতে পারেন ইংশাআল্লহ। আর সেই পানিটা একটু বালতির পানির সাথে মিক্স করে গোসল করতে পারেন, চেহারাও ধুয়ে নিতে পারেন ইংশাআল্লহ। বিয়ে না হওয়া বা ভাঙ্গার কারণের মাঝে যদি জ্বীন, যাদু, বদনজর–এই সম্পর্কিত কিছু থেকে থাকে, তাহলে অনেক কাজে দিবে এটা। আপনার জন্য এটা রুকইয়াহ হিসেবে কাজ করবে।কারণ, আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সমস্ত কুরআন জুড়েই আমাদের জন্য শেফা রেখেছেন।
আল্লহ (ﷻ) বলেন– “আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।”(সূরা ইসরা; আয়াত : ৮২)
সব বিয়ে ভাঙা বা বিলম্ব জ্বীন–যাদুর কারণে নয়। অনেক সময় কদর, সামঞ্জস্য না হওয়া, অথবা আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম কিছু সংরক্ষিত থাকার কারণেও বিলম্ব হয়। তাই আমলের সাথে সাথে সঠিক অনুসন্ধান ও ইস্তিখারাও জরুরি।
২। জমজমের পানি খেয়ে দু'আ করবেন। দু'আ কবুলের সময় গুলোতে জমজমের পানি খেয়ে দু'আ করবেন ইংশাআল্লহ। জমজমের পানি খেয়ে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়।
৩। উঠতে-বসতে দরুদ-ইস্তেগফারের সাথে সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত পড়বেন, সূরা কাসাসের ২৪ নং আয়াত পড়বেন। আল্লাহর কাছে দু'আ করতে হবে প্রচুর! দু'আয় সব সম্ভব! সব সব! আল্লহ'র কাছে প্রচুর চাইতে হবে। একজন উত্তম জীবনসঙ্গী ভিক্ষা চাইতে হবে রবের কাছে!
৪। তাহাজ্জুদ মাস্ট! আপনাকে তাহাজ্জুদ পড়তেই হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২ রাকাত সালাত আদায় করবেন। নবিজীর (ﷺ) সুন্নাহ অনুযায়ী পড়তে চাইলে ২ রাকাত করে করে ৮ রাকাত পড়তে পারেন। সালাতের পর আল্লহ'র কাছে উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য দু'আ করবেন।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন—রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লহ বলেনঃ “কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি সাড়া দেবো?”
সুবহানাল্লহ! আল্লহ নিজেই আপনাকে চাওয়ার জন্য ডাকছেন। তাহলে রব্ব আপনাকে ফিরিয়ে কিভাবে দিবেন বলুন তো?
৫। বেশি বেশি সালাতুল হাজতের নামাজ আদায় করবেন।
(নিয়ম: সাধারণ দুই রাকাত নফল সালাতের মতই। শুধু নিয়্যাত হবে সালাতুল হাজতের)
সালাতুল হাজতের নামাজের সিজদায় সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত,সূরা কাসাসের ২৪ নং আয়াত, ইসমে আযম পড়বেন।
৬। অতিরিক্ত পরিমাণে ইস্তেগফার করতে হবে। ১দিনে ১০,২০,৩০ হাজার যত পারেন ইস্তেগফার করুন। কারণ আল্লহ ﷻ সূরা নূহের ১০ থেকে ১২ নং আয়াতে বলেছেন যে, ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লহ রিজিক বাড়িয়ে দিবেন। বিয়ে তো রিজিকের ই বিষয়! সুতরাং যত বেশি ইস্তেগফার, জীবনে তত বেশি বারাকাহ!
৭। দরুদের আমল মিস দেওয়া যাবেই না! কোনোমতেই না! দরুদে ইব্রাহীম পড়ুন। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী পড়ুন। ছোট দরুদও পড়তে পারেন ইনশাআল্লহ।
ইস্তেগফার এবং দরুদ সমান সংখ্যার রাখতে পারেন চাইলে। যেমন: ইস্তেগফার ১৫ হাজার বার, দরুদ ১৫ হাজার বার। আমল করতে করতে বিষয়টা সহজ হয়ে যায়। তাই সংখ্যা দেখে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। যারা অভ্যস্ত হয়ে গেছে দরুদ ইস্তেগফারের আমলে,তাদের কাছে এই সংখ্যাটা একেবারেই সহজ বিষয়। তবুও আমি বলবো সংখ্যার চেয়েও যেটা বেশি জরুরী তা হলো ইখলাস! আপনি শুধু “আস্তাগফিরুল্লহ” “আস্তাগফিরুল্লহ” বুলি আওড়াচ্ছেন মুখে,কিন্তু সেই ইস্তেগফার গুলো প্রাণহীন। মানে কোনো মুহাব্বাত নেই, ইখলাস নেই–এমন হলে হবেনা। মুহাব্বাতের সাথে এবং ইখলাসের সাথে ১ বার পড়লেও আল্লহ কবুল করে নিবেন ইনশাআল্লহ।
৮। বেশি বেশি দু'আ ইউনুস, ইয়া হাইয়্যু,ইয়া কায়্যুম, ইয়া যালজালালি ওয়াল ইক্বরম, ইয়া আহাদ, ইয়া ছমাদ–এগুলো পাঠ করতে পারেন। এগুলো ইসমে আযম। আরও কিছু ইসমে আযম আছে সেগুলো কমেন্ট বক্সে দিচ্ছি ইংশাআল্লহ।
৯। প্রতিদিন ই সাদাকাহ করবেন যদি তা ১ টাকাও হয়! তাহাজ্জুদের সালাত শেষে সাদাকাহ করে এরপর দু'আ করবেন। যারা ঘরে থাকেন তারা সাদাকাহ টা এভাবে করতে পারেন, একটা আলাদা বাক্স রাখতে পারেন। সেখানে প্রতি রাতে সাদাকাহ করবেন। এরপর সব টাকাগুলো একসাথে জমিয়ে কোনো জায়গায় সাদাকাহ করে দিবেন ইংশাআল্লহ। নিয়্যাত থাকবে প্রতিদিনের সাদাকাহর। কিন্তু আমরা যারা বাহিরে কম যাই,তাদের জন্য এই পদ্ধতি।
১০। বাবা-মা’য়ের সাথে সৎ ব্যবহার করবেন। কখনই তাদের প্রতি উচ্চস্বরে কথা বলবেন না, এবং মুসলিম উম্মাহ ও অবিবাহিত সকলের জন্য দোয়া করবেন। কারণ, ইসলামের সৌন্দর্য হলো– আপনি অপরের জন্য যে দোয়া করবেন, তা আপনার দিকে দ্বিগুন হয়ে ফিরে আসবে।
উপরোক্ত আমল গুলো চাইলে যে কোন পেরেশানি থেকে মুক্তি, সন্তান লাভের জন্য, রিজিক বৃদ্ধির জন্য করতে পারেন ইনশাআল্লহ। এগুলো পরীক্ষিত আমল।
আল্লহ আমাদের বিয়েকে সহজ করে দিন, আমিন।
— উম্মে আদন
Comments
Post a Comment