আরাফাতের ময়দানের যে দোয়া গুলো পড়বেন

 আরাফাতের ময়দানের যে দোয়া গুলো পড়বেন :---------------

১. তালবিয়া :----
তালবিয়া (Talbiyah) হলো হজ ও উমরার সময় উচ্চারণ করা একটি বিশেষ দোয়া। এটি ইহরাম অবস্থায় বারবার পড়তে হয়।
আরবি পাঠ :----
> لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ،
لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ،
إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ،
لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ (বাংলা) :------
লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,
লাব্বাইকা লা- শারীকা লাকা লাব্বাইক,
ইন্নাল হামদা ওয়ান্-নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক,
লা- শারীকা লাক।
অর্থ :-----
“আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির।
আপনার কোনো শরিক নেই—আমি হাজির।
নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, সব নিয়ামত এবং সার্বভৌমত্ব আপনারই।
আপনার কোনো শরিক নেই।”
হজ বা উমরার সময় ইহরাম বাঁধার পর থেকে এই তালবিয়া বেশি বেশি পড়া সুন্নত। ( ১০০ বার)
২. লা--- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ:দাহু লা--- শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হা:মদু য়ুহয়ী- ওয়া য়ুমি-তু বিয়াদিহিল খইরু, ওয়া আ'লা, কুল্লি শাইয়িন ক্বদি---র ( ১০০ বার)
৩. সূরা ইখলাস
আরবি পাঠ :-----
> قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
اللَّهُ الصَّمَدُ
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ (বাংলা) :-----
কুল হুওয়াল্লাহু আহা:দ,
আল্লাহুস্ সামাদ,
লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ,
ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহা:দ। ( ১০০ বার)
অর্থ :-----
বলুন, তিনি আল্ল-হ, এক।
আল্ল-হ অমুখাপেক্ষী (সবার মুখাপেক্ষী নন)।
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।
এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
৪. দরূদ শরীফ (দরূদে ইবরাহিম) — নবী করিম ﷺ-এর ওপর শান্তি ও বরকত প্রেরণের দোয়া।
আরবি পাঠ :-----
> اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ
كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ
إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ
كَمَا بَارَكْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ
إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
উচ্চারণ (বাংলা) :-----
আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া ‘আলা আালি মুহাম্মাদ,
কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আালি ইবরাহীম,
ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ।
আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া ‘আলা আালি মুহাম্মাদ,
কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আালি ইবরাহীম,
ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ। ( ১০০ বার)
অর্থ :------
হে আল্ল-হ! আপনি মুহাম্মদ (ﷺ) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করুন,
যেমন আপনি ইবরাহীম (আ.) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন।
নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।
হে আল্ল-হ! আপনি মুহাম্মদ (ﷺ) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করুন,
যেমন আপনি ইবরাহীম (আ.) এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করেছেন।
নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।
৫. আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা--- ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি ( ১০০ বার)
৬. কালেমা তাইয়্যেবা
আরবি পাঠ:
> لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ
উচ্চারণ (বাংলা) :-----
লা--- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
অর্থ :-----
আল্ল-হ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; মুহাম্মদ ﷺ আল্ল-হর রাসূল।
৭. হা:সবুনাল্লাহু ওয়ানিমাল ওয়াকিল, ওয়ানিমাল মাওলা ওয়ানিমান নাসির ( ১০০ বার)
৮. আরবি পাঠ :-----
فَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظًا وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ (বাংলা) :-----
ফাল্লাহু খাইরুন হাফিজাও ওয়া হুয়া আরহামুর রাহিমীন।
অর্থ :----
“আল্ল-হই সর্বোত্তম রক্ষক এবং তিনি সর্বাধিক দয়ালুদের মধ্যেও সর্বাধিক দয়ালু।”
উৎস :----
এটি সূরা ইউসুফ (১২:৬৪) থেকে নেওয়া।
ব্যবহার ও ফজিলত :----
এই দোয়াটি ভ্রমণের সময়, সন্তান বা প্রিয়জনকে আল্লাহর হেফাজতে সোপর্দ করার সময় পড়া খুবই উত্তম। এটি আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা (তাওয়াক্কুল) প্রকাশ করে।
( ১০০ বার)
৯. দোয়া (কুরআন থেকে) :------
আরবি পাঠ :-----
> حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ (বাংলা) :-----
হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রব্বুল আরশিল আযীম।
অর্থ :------
“আল্ল-হই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি, আর তিনি মহান আরশের অধিপতি।”
উৎস :---&--
সূরা আত-তাওবা (৯:১২৯)
ফজিলত ও ব্যবহার :----
এই দোয়াটি আল্লাহর উপর পূর্ণ নির্ভরতা (তাওয়াক্কুল) প্রকাশ করে। বিপদ, দুশ্চিন্তা, ভয় বা অনিশ্চয়তার সময় এটি বেশি বেশি পড়া উত্তম। হাদিসে এসেছে—সকাল-সন্ধ্যায় ৭ বার পড়লে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান (আল্লাহর হেফাজত ও সাহায্য লাভের আশা করা যায়)। ( ১০০)
১০. আরবি পাঠ :----
> رَبِّي يَسِّرْ وَلَا تُعَسِّرْ وَتَمِّمْ بِالْخَيْرِ، وَبِكَ نَسْتَعِينُ
উচ্চারণ (বাংলা) :-----
রাব্বি ইয়াসসির ওয়ালা তুআাসসির, ওয়া তাম্মিম বিল খাইর, ওয়া বিকা নাস্তা'ঈনু। ( ১০০)
অর্থ :----
“হে আমার প্রতিপালক! আপনি সহজ করে দিন, কঠিন করবেন না; এবং কল্যাণের সাথে সম্পূর্ণ করুন। আর আমরা আপনারই সাহায্য চাই।”
ব্যবহার :------
কোনো কাজ শুরু করার আগে, পরীক্ষা, ভ্রমণ বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই দোয়াটি পড়া খুবই উপকারী—আল্ল-হর সাহায্য ও সহজতা কামনার জন্য।
১১. যিকির (তাওহীদের ঘোষণা) :-----
আরবি পাঠ :------
> لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ (বাংলা):
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু,
লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু,
ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর। ( ১০০ বার)
অর্থ:
“আল্ল-হ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
সার্বভৌমত্ব তাঁরই, সব প্রশংসা তাঁরই,
এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।”
ফজিলত:
এই যিকিরটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সহিহ হাদিসে এসেছে—যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার পড়ে, তার জন্য অনেক সওয়াব লেখা হয়, গুনাহ মাফ করা হয় এবং শয়তান থেকে হেফাজত করা হয়।
১২. আরবি পাঠ :
> اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
উচ্চারণ (বাংলা):
আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু, আল্লাযী আত‘আমানা ওয়া সাকানা, ওয়া জা‘আলানা মিনাল মুসলিমীন। ( ১০০)
অর্থ:
“হে আল্ল-হ! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা—যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং আমাদের মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।”
ব্যবহার:
খাবার শেষ করার পর এই দোয়াটি পড়া সুন্নত। এতে আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
১৩. (আল্লাহুম্মা লাকাল হা:মদু আল্লাজি- তা'কুল ওয়া খয়রন মিন্মানাকুল) [ সংশোধন করতে হবে ]
আরবি পাঠ :
> اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ
উচ্চারণ (বাংলা):
আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু, আল্লাযী আত‘আমানী হাযা, ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি হাওলিন মিন্‌নী ওয়ালা কুওয়াহ।
অর্থ:
“হে আল্ল-হ! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা—যিনি আমাকে এই খাবার খাওয়ালেন এবং তা রিযিক হিসেবে দান করলেন, আমার কোনো শক্তি বা ক্ষমতা ছাড়াই।”
ফজিলত:
হাদিসে এসেছে—এই দোয়াটি পড়লে পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় (আল্লাহর রহমতে)।
১৪. আরবি পাঠ:
> إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ
উচ্চারণ (বাংলা):
ইন্না সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামীন, লা শারীকা লাহু।
অর্থ:
“নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই আল্ল-হর জন্য, যিনি সারা জগতের প্রতিপালক; তাঁর কোনো শরিক নেই।”
উৎস:
সূরা আল-আনআম (৬:১৬২)
ফজিলত:
এটি তাওহীদের একটি শক্তিশালী ঘোষণা। এতে বান্দা ঘোষণা করে যে তার পুরো জীবন, ইবাদত ও মৃত্যু শুধু আল্লাহর জন্য নিবেদিত।
১৫. আল্ল-হুম্মা লাকা সালাতি- ওয়া নুসুকি- ওয়া মাহয়ায়া ওয়া মামাতি, ওয়া ইলাইকা মায়াবী ওয়ালা রব্বি তুরতি। ( ১০০ বার)
১৬. আরবি পাঠ :
> اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ وَسْوَسَةِ الصَّدْرِ، وَمِنْ شَتَاتِ الْأَمْرِ
উচ্চারণ (বাংলা):
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিকা মিন ‘আযাবিল ক্বাবর,
ওয়া মিন ওয়াসওয়াসাতিস সাদর,
ওয়া মিন শাতাতিল আমর। ( ১০০ বার)
অর্থ:
“হে আল্ল-হ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে, অন্তরের কুমন্ত্রণা থেকে, এবং কাজকর্মের বিশৃঙ্খলা থেকে।”
ফজিলত:
এই দোয়াটি নবী ﷺ বিভিন্ন সময়ে পড়তেন, এটি অন্তর ও জীবনকে অস্থিরতা থেকে হেফাজত করে।
১৭.
আরবি পাঠ:
> اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا جُبِلَ عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا جُبِلَ عَلَيْهِ
উচ্চারণ (বাংলা):
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহু ওয়া খাইরা মা জুবিলা আলাইহি,
ওয়া আউযু বিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা জুবিলা আলাইহি।
অর্থ:
“হে আল্ল-হ! আমি আপনার কাছে এর (যানবাহন/জীবনসঙ্গী ইত্যাদির) কল্যাণ চাই এবং যে কল্যাণ এর মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তাও চাই।
আর আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট থেকে এবং এর মধ্যে যে অনিষ্ট রাখা হয়েছে তা থেকে আশ্রয় চাই।”
১৮. আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খইরি মা তাহয়া বিহির রি-হু, ওয়া আউয়ুযুবিকা মিন শার্রি মা- তাহুয়া বিহির রিহু।
১৯. আরবি পাঠ:
> اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا
উচ্চারণ (বাংলা):
আল্লাহুম্মাজ‘আল ফী কালবী নূরা,
ওয়া ফী সাম‘ঈ নূরা,
ওয়া ফী বাসারী নূরা।
অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার শ্রবণে নূর দান করুন, এবং আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন।”
ফজিলত:
এই দোয়া নবী ﷺ বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর কাছে নূর (আলো, হিদায়াত ও অন্তর্দৃষ্টি) চাওয়ার জন্য পড়তেন। এটি অন্তর ও জীবনে হিদায়াত ও প্রশান্তি আনে।
২০. আরবি পাঠ:
> رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي، وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
উচ্চারণ (বাংলা):
রব্বিশরাহ লী সদরী, ওয়া ইয়াসসির লী আমরী।
অর্থ:
“হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।”
উৎস:
সূরা ত্বা-হা (২০:২৫–২৬)
এটি নবী মূসা (আ.)-এর দোয়া, যা কঠিন কাজ বা দুশ্চিন্তার সময় পড়া হয়।
২১. আরবি পাঠ:
> وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ وَسَاوِسِ الصُّدُورِ، وَسُوءِ الأَفْكَارِ، وَشَرِّ الأَعْمَالِ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
উচ্চারণ (বাংলা):
ওয়া আউযু বিকা মিন ওয়াসওয়াসিং- সুদূর,
ওয়া সূইল আফকার,
ওয়া শাররিল আ‘মাল,
ওয়া মিন ‘আযাবিল ক্বাবর।
অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অন্তরের কুমন্ত্রণা থেকে, খারাপ চিন্তা থেকে, খারাপ কাজ থেকে এবং কবরের শাস্তি থেকে।”
২২. তাওহীদের যিকির
> لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই… তিনি সর্বশক্তিমান।
২৩. সহজতা ও কল্যাণের দোয়া
> رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي، وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার বক্ষ প্রশস্ত করুন, আমার কাজ সহজ করুন।
২৪. নূরের দোয়া
> اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا
অর্থ: হে আল্ল-হ! আমার অন্তর, শ্রবণ ও দৃষ্টিতে নূর দান করুন।
২৪. হেফাজতের দোয়া
> فَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظًا وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
অর্থ: আল্ল-হই সর্বোত্তম রক্ষক, তিনি সর্বাধিক দয়ালু।
২৫. কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয়
> اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
অর্থ: হে আল্ল-হ! আমি কবরের শাস্তি থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
২৬. দরূদ শরীফ
> اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ
অর্থ: হে আল্ল-হ! মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন।
২৭. কালেমা তাইয়্যেবা
> لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ
অর্থ: আল্ল-হ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ ﷺ আল্ল-হর রাসূল।
২৮. আরবি :
وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ وَسْوَاسِ الصُّدُورِ، وَتَشَتُّتِ الْأَمْرِ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ
উচ্চারণ :
ওয়া আ‘উযু বিকা মিন ওয়াসওয়াসিং-সুদূর, ওয়া তাশাত্তুতিল আমর, ওয়া- আযাবিল ক্ববর।
অর্থ :
“হে আল্ল-হ! আমি আপনার কাছে অন্তরের কুমন্ত্রণা ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাই, জীবনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে আশ্রয় চাই এবং কবরের আজাব থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
২৯.
আরবি পাঠ:
> صَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
উচ্চারণ (বাংলা):
সাল্লাল্লাহু ‘আলা মুহাম্মাদ, সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
অর্থ:
“আল্লাহ মুহাম্মাদ ﷺ-এর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
৩০.
> آمِينَ ثُمَّ آمِينَ، بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ (বাংলা):
আমীন, সুম্মা আমীন, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।
অর্থ:
“আমীন, আবারও আমীন—হে সর্বাধিক দয়ালুদের মধ্যে সর্বাধিক দয়ালু, আপনার রহমতের মাধ্যমে কবুল করুন।”
এটি সাধারণত দোয়ার শেষে বিনয় ও কবুলিয়াতের আশা প্রকাশের জন্য বলা হয়।
৩১. সূরা ইয়াসিন, সূরা মুলক, সূরা আর রহমান, সূরা ওয়াক্বিয়া

==============

আমরা কীভাবে আরাফার দিনের (ইয়াওমুল আরাফাহ) সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করব?
আরাফাতের দিনটি শপিং, কেনাকাটা, ঘুম কিংবা আরাম-আয়েশ করে কাটিয়ে দেওয়ার দিন নয়!
যদি এই কাজগুলো খুব বেশি জরুরি হয়, তবে আরাফাতের দিনের অন্তত দুই দিন আগেই তা শেষ করে ফেলুন।
এটি এমন এক দিন, যাকে আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত সম্মানিত করেছেন। এটি সেই দিন, যার সম্মান করার নির্দেশ আল্লাহ নিজে দিয়েছেন।
এই দিনে আল্লাহ তা'আলা আসমানের ফেরেশতাদের সামনে আরাফাতের ময়দানে সমবেত বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন।
এটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার দিন, ইবাদত ও আনুগত্যে কঠোর পরিশ্রম করার দিন; আর বছরের সবচেয়ে সেরা দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।
তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন, যেন আপনার জীবনের এই বিশেষ দিনের একটি নিঃশ্বাসও আল্লাহর আনুগত্য পার না হয়।
আরাফার দিনের ইবাদতের একটি আদর্শ রুটিন (টাইমটেবিল):
১.আরাফাতের আগের রাতে জলদি ঘুমিয়ে পড়ুন, যেন পরদিন আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করার জন্য শরীরে পূর্ণ শক্তি পান।
২. ফজর হওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠুন, যেন এই মহামূল্যবান দিনের রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে সাহরি খেতে পারেন।
৩. তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করুন। কম পক্ষে দুই বা চার রাকাত নামাজ পড়ুন। সেজদারত অবস্থায় আপনার রবের কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণ চেয়ে আকুল দোয়া করুন।
আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানান যে, তিনি আপনাকে রহমত ও মাগফিরাতের এই বিশেষ দিনটি পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছেন।
৪. ফজরের আগের সময়টুকু ইস্তিগফারে কাটান, যেন আল্লাহর দরবারে আপনার নামটিও শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের তালিকায় লিখে নেওয়া হয়।
৫. ফজরের আযানের ৫ মিনিট আগেই প্রস্তুত হয়ে যান। ওযু করার সময় মনে মনে এই অনুভূতি রাখুন যে, ওযুর শেষ ফোঁটা পানির সাথে আপনার জীবনের গুনাহগুলোও ধুয়ে মুছে যাচ্ছে।
৬. ফজরের নামাজ পড়ুন এবং জায়নামাজেই বসে থাকুন। সূর্য ওঠার পর আরও ১৫ মিনিট পর্যন্ত নিজের জায়নামাজেই অবস্থান করুন; যেন একটি পূর্ণাঙ্গ হজ ও উমরার সওয়াব লাভ করতে পারেন, যেমনটি প্রিয় নবী ﷺ হাদিসে বর্ণনা করেছেন।
৭. ফজর নামাজের সালাম ফেরানোর পর থেকেই তাকবীর শুরু করে দিন:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।"
৮. ফজরের নামায শেষে ইশরাকের সময় পর্যন্ত বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করুন।
তাসবীহ-তাহলীল পড়ুন, আল্লাহর হামদ (প্রশংসা) করুন, নবী করীম ﷺ-এর ওপর দরুদ পড়ুন এবং সকালের মাসনুন দোয়া ও জিকিরগুলো পড়তে ভুলবেন না।
৯. এরপর আপনার ইচ্ছা! যদি আপনার ভেতরে পুরো দিন না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেওয়ার মতো শক্তি থাকে, তবে একটি সেকেন্ডও নষ্ট না করে জিকির ও দোয়ায় মগ্ন থাকুন এবং দোয়া কবুল হওয়ার পূর্ণ বিশ্বাস রাখুন।
আর যদি ক্লান্তি লাগে, তবে এই নিয়তে ১ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিতে পারেন যে, এই ঘুমের মাধ্যমে ইবাদত করার নতুন শক্তি অর্জিত হবে।
১০. ঘুম থেকে উঠে ওযু করুন এবং কম পক্ষে ৪ রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করুন।
ক্লান্তি বা একঘেয়েমি দূর করতে ইবাদতের ধরন বদলে বদলে করুন। যেমন: কিছুক্ষণ তাকবীর, কিছুক্ষণ জিকির, কিছুক্ষণ তিলাওয়াত, তারপর দরুদ শরিফ।
আরাফার দিনে এই দোয়াটি সারাদিন সবচেয়ে বেশি বেশি পড়ুন:
"لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير"
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর)।
১১. যোহরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করুন। নামাজের পর তাকবীর দিন, তাসবীহ পড়ুন এবং পবিত্র কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করুন।
১২. আসরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করুন। নামাজের পর তাকবীর দিন এবং সন্ধ্যার মাসনুন আজকার ও দোয়াগুলো পড়ে নিন।
১৩. এবার পরম আকুলতা ও বিনয়ের সাথে দোয়ায় মগ্ন হোন। আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দুনিয়া ও আখিরাতের আপনার যত হাজত বা প্রয়োজন আছে, সব চেয়ে নিন।
মনে রাখবেন, এই সময়ে (আসরের পর) দোয়া কবুলিয়তের দুটি বিশেষ মুহূর্ত একসাথে জমা হচ্ছে:
• আরাফাতের দিনের আসরের পরের শেষ মুহূর্ত।
• একজন রোজাদারের ইফতারের ঠিক আগের মুহূর্ত।
দোয়ার এই বরকতময় সময়ে দুনিয়াজুড়ে নির্যাতিত, মজলুম ও অসহায় মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য দোয়া করতে একদম ভুলবেন না।
একইসাথে দোয়ার একটি অংশ সেসব মৃত মুসলমানদের জন্যও রাখুন, যারা অন্ধকার কবরে শুয়ে আমাদের থেকে মাগফিরাতের দোয়ার আশা করে আছেন।
১৪. আল্লাহর কাছে রোনাজারি করুন, যেন আরাফাতের দিনের সূর্যটি ডোবার আগেই আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে চিরতরে মুক্তিপ্রাপ্ত ভাগ্যবানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেন।
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত এবং তাঁর দরবারে কবুল হওয়া নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।

Comments

Popular posts from this blog

রাসুল (সাঃ) রাওজা জিয়ারতের ক্ষেত্রে করনীয় ও বর্জনীয়

দোয়া

নবিজির প্রতি ভালোবাসার তীব্রতা