মসজিদুল হারামের দিনগুলো কিভাবে কাটাবেন

 মসজিদুল হারামের দিনগুলো কিভাবে কাটাবেন ? ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে শেয়ার করছি ।

- রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠবেন । চেষ্টা করবেন যেন সাড়ে তিনটার মধ্যে মসজিদে প্রবেশ করা যায় । সাড়ে তিনটা তাহাজ্জুদের আযান হয় । একঘন্টা তাহাজ্জুদে কাটাতে পারেন অথবা চাইলে এসময় তাওয়াফ দিয়ে ফেলতে পারেন ।
- ফজরের সালাতের পর যদি তাওয়াফ বাকি থাকে তাহলে সকালে ঠান্ডা আবহাওয়ায় সেরে ফেলতে পারেন । অথবা জিকিরে, কোরআন তেলাওয়াতে কাটুক এই সময়টা ছয়টা পাঁচ অবধি । ৬ টা পাঁচে ইশরাকের সময় হয় । ইশরাকের সালাতটা পড়ে ফেলুন । এবার হোটেলে ব্যাক ।
-ততক্ষণে আপনার নাস্তা চলে আসছে । এবার নাস্তাটা করে একটা ঘুম । মক্কা-মদিনার সময়টুকু আপনি রাতে ঘুমাতে পারবেন না, সবচেয়ে মজার ঘুমটা হচ্ছে এই সময়টা । একেবারে কমসেকম রাত সকাল ১১ টা পর্যন্ত ।
-এমনভাবে উঠুন যেন গোসল সেরে বারোটার মধ্যে মসজিদে ঢোকা যায় ।
-আমি আমার ফ্লাই জান্নাহর হাজীদের রিকোয়েস্ট করেছি যেন প্রতিদিন অন্তত ৪০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয় । এর কোন দলিল নেই , যেহেতু হারামে এক রাকাতে এক লক্ষ রাকাতের পুরস্কার, সেহেতু একটা টার্গেট সেট করা । আর আমি দেখেছি টার্গেট সেট করলে অন্তত কিছু হলেও বাড়তি সালাত আদায় হয় । আর দিনে ৪০ বারাকাত নামাজ এটা খুব সহজ । রাতে তাহাজ্জুদে ১০, দুপুরে ১০, মাগরিবের আওয়াবীনের ১০ ,আর এশা সালাতের আগে বা পরে ১০ ।
-দুপুরে খেয়েদেয়ে একটু কাত হতে পারেন বেশিক্ষণ ঘুমাতে পারবেন না কারণ ৩ঃ৪৫ আবার আসর । তবে চাইলে এক ঘন্টা রেস্ট নেওয়া যায় ।
-আসরের সালাত শেষ করে অযথা সময় নষ্ট না করে হয় হোটেলে ফিরে একটা ঘুম দেবেন, এটা ঘুমের আরেকটা মোক্ষম সময় । প্রায় আড়াই ঘন্টা সময় থাকে মাগরিবের সালাতের আগ পর্যন্ত ।
-মাগরিব থেকে এশার সময়টুকু হারামে কাটাতে পারেন । কারণ এই দুই নামাজের মধ্যবর্তী গ্যাপটা কম । আর একটু মসজিদে সময় কাটল ।
-যাদের কুরআন মুখস্থ আছে তারা প্রতিদিন অন্তত একবার করে রিভিশন দিবেন । আর যাদের অত বেশি মুখস্ত নাই অন্তত এক ঘন্টা দিনে কোরআন তেলাওয়াতে চেষ্টা করবেন ।
-এ লম্বা সফরটাতে নতুন একটা সূরা মুখস্ত করে ফেলতে পারেন । একটা টার্গেট করে ফেলুন, ছোট সূরা হলেও ।
-প্রতিদিন কমসেকম একটা তাওয়াফ অবশ্যই দিবেন, যদি শারীরিক সামর্থ্য থাকে । তবে সামনের হজের কথা মাথায় রাখতে হবে , ওইটাই আসল টার্গেট ।
-এশার সালাতের পর এবার একটু হারামের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করুন ।‌চা খান , গল্প করেন, পরিচিত লোকজনের সাথে আড্ডা দেন ।
-আর রাতের ঘুম অবশ্যই ১১ঃ০০ টার মধ্যে ।
তারপর আবার তিনটা থেকে শুরু।
আপনাকে দাওয়াত দিছেন পৃথিবীর সব বাদশাদের বাদশা, আসমান এবং জমিনের একমাত্র অধিপতি । যিনি অভাবমুক্ত, না চাইলেও দেন । তিনি তার ঘরে আপনাকে দাওয়াত দিয়ে আনছেন ।‌ এই পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিমদের মধ্য থেকে বেছে বেছে আপনাকে নিয়ে আসছেন । আপনি আরশের বাদশার দরবার থেকে কতটুকু তুলে নিবেন তা একান্তই আপনার ইচ্ছা ।

Comments

Popular posts from this blog

রাসুল (সাঃ) রাওজা জিয়ারতের ক্ষেত্রে করনীয় ও বর্জনীয়

দোয়া

নবিজির প্রতি ভালোবাসার তীব্রতা